Breaking



শনিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২১

রাজ্যের শাসনকার্যে রাজ্যপালের ভূমিকা ও ক্ষমতা সমূহ

রাজ্যের শাসনকার্যে রাজ্যপালের ভূমিকা ও ক্ষমতা সমূহ

রাজ্যের শাসনকার্যে রাজ্যপালের ভূমিকা ও ক্ষমতা সমূহ  -The role and powers of the Governor in the governance of the State
রাজ্যের শাসনকার্যে রাজ্যপালের ভূমিকা ও ক্ষমতা সমূহ  -The role and powers of the Governor in the governance of the State


ভারতীয় সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপাল উভয়ই হলেন নিয়মতান্ত্রিক শাসক প্রধান। রাজ্যের রাজ্যপালগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। সংবিধানের ১৫৬(১) নং ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর রাজ্যপালের কার্যকালের মেয়াদ নির্ভরশীল। সাধারণত প্রতিটি রাজ্যের জন্য একজন করে রাজ্যপাল থাকেন। অবশ্য দুই বা ততােধিক রাজ্যের জন্যও একজন মাত্র। রাজ্যপাল থাকতে পারেন (১৫৩ নং ধারা)। রাজ্যপালকে শপথ বাক্য পাঠ করান সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। 


রাজ্যপাল পরিচিতি 


যােগ্যতা ও শর্তাদি : 

১. ভারতের নাগরিক, ২. অন্তত ৩৫ বছর বয়স , ৩. সংসদ বা রাজ্য আইনসভার সদস্য না থাকা, 

৪. কোন লাভজনক পদে না থাকা।  


নিয়ােগ : 

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি রাজ্যপালকে নিয়ােগ করেন। নির্বাচনের কোন বিষয় থাকে না।


মেয়াদ : 

পাঁচ বছর; রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাধীন। 


পদশূন্য : 

১. পদত্যাগ, ২. মৃত্যু, ৩. রাষ্ট্রপতির দ্বারা পদচ্যুত। 


ক্ষমতা ও কার্যাবলী :

১. শাসন সংক্রান্ত : 

নিয়ােগ সংক্রান্ত।


২. আইন সংক্রান্ত : 

ক) প্রয়ােজনে ইঙ্গ-ভারতীয় সম্প্রদায় বিধানসভায় সদস্য মনােনয়ন, খ) বিলে স্বাক্ষর, গ) বিধানপরিষদ থাকলে কয়েক জন (শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান) ব্যক্তিকে মনােনয়ন, ঘ) জরুরী সংক্রান্ত প্রভৃতি।


৩. বিচার সংক্রান্ত : 

ক) হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ােগ, খ) দণ্ডাদেশ হ্রাস করার ক্ষমতা অর্থাৎ ক্ষমা প্রদর্শন করার ক্ষমতা। 


৪. অর্থ সংক্রান্ত : 

ক) অর্থবিল, খ) বাজেট গ) আকস্মিক ব্যয় তহবিল।

৫. রাজ্য সরকারের যাবতীয় কাজকর্ম রাজ্যপালের নামে সম্পাদিত হয়।


৬. স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা : 

সংবিধানের ১৬৩ নং ধারানুযায়ী রাজ্যপালকে কতকগুলি ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যপালের এই সমস্ত ক্ষমতাকে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলা হয়। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী সভার পরামর্শ শুনতে বাধ্য নন। স্বতন্ত্র উন্নয়ন পর্ষদ, উন্নয়নমূলক ব্যয়ের ন্যায়সঙ্গত বন্টন, বিধানসভা ত্রিশঙ্কু হলে রাজ্যপাল স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়ােগ করেন।  


রাজ্যপালের শাসন ও আইনসংক্রান্ত ক্ষমতা : 

রাজ্যপাল বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রীকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিয়ােগ করেন। তারপর মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়ােগ করেন। রাজ্যপাল আইনসভার অধিবেশন আহ্বান ও স্থগিত রাখতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে বিধানসভা ভেঙ্গে দিতে পারেন। 


রাজ্যপাল সংশ্লিষ্ট রাজ্যে শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে মনে করলে রাষ্ট্রপতির কাছে জরুরী অবস্থা (৩৫৬ ধারা)-র সুপারিশ করতে পারেন। রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া রাজ্য আইনসভা কর্তৃক কোন বিল আইনে পরিণত হতে পারে না। অধিবেশন বন্ধ থাকাকালীন রাজ্যপাল অর্ডিন্যান্স জারী করতে পারেন, তবে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ৬ সপ্তাহের মধ্যে অনুমােদিত না হলে বাতিল হয়ে যাবে। তিনি অডিটার জেনারেল, সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান প্রভৃতি নিযুক্ত করেন। 


রাজ্যপালের অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা : 

রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া রাজ্য আইনসভায় কোন ব্যয় বরাদ্দের দাবি পেশ কিংবা কোন অর্থবিল উত্থাপন করা যায় না। রাজ্যের বাজেট তিনি অর্থমন্ত্রী মারফত বিধানসভায় উত্থাপন করেন। রাজ্যপালের হাতে রাজ্যের ‘আকস্মিক ব্যয় তহবিল’ এর দায়িত্ব ন্যাস্ত থাকে।  


রাজ্যপালের বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা : 

রাজ্যপালের পরামর্শে রাষ্ট্রপতি রাজ্যের হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ােগ করেন। রাজ্যের দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতের বিচারপতিদের নিয়ােগ করেন। আইন ভঙ্গের অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর দণ্ডাদেশ হ্রাস করার, স্থগিত রাখার, এমনকি ক্ষমা প্রদর্শন করার ক্ষমতা রাজ্যপালের রয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা রাজ্যপালের নেই। এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে।


বাজ্যপালের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করা যায় না। দেওয়ানী মামলা রুজু করার আগে দুই মাসের নােটিশ দিতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন